বাংলা সাহিত্য9 মিনিট পড়ার সময়১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগ: চর্যাপদ থেকে মঙ্গলকাব্য—বিসিএসের নিশ্চিত ৫ নম্বর
চর্যাপদের আবিষ্কার, কবিগণ, ভাষা ও ছন্দ এবং মধ্যযুগের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলী ও আরাকান রাজসভা থেকে নিশ্চিত নম্বর তোলার গাইড।
মলেখক: মুক্তপ্রেপ বাংলা গবেষণা উইং
মুক্তপ্রেপ এডুকেশনাল হাব
প্রাচীন ও মধ্যযুগ: বিসিএস বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে নিরাপদ ৫ নম্বর
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা সাহিত্য অংশে মোট ২০ নম্বরের মধ্যে প্রাচীন ও মধ্যযুগ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে। আধুনিক যুগের মতো এই অংশের পরিধি অসীম নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু গ্রন্থ, কবি ও পদাবলীর তথ্য জানলেই এই ৫ নম্বরে ৫-ই পাওয়া সম্ভব।
১. প্রাচীন যুগ: চর্যাপদ (৬৫০/৯৫০ – ১২০০ খ্রিস্টাব্দ)
- আবিষ্কার: ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের রয়্যাল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদের মূল পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- প্রকাশনা: ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে এটি প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের ভাষা বাংলা প্রমাণ: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে তাঁর কালজয়ী গবেষণা গ্রন্থ ODBL (The Origin and Development of the Bengali Language)-এ চর্যাপদের ধ্বনিতত্ত্ব ও ব্যাকরণ বিশ্লেষণ করে এটি যে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন।
- মোট পদ ও পদকর্তা: মোট পদ সাড়ে ৪৬টি (মতান্তরে ৪৭টি)। মোট পদকর্তা ২৪ জন (মতান্তরে ২৩ জন)।
- সর্বাধিক পদ রচনা করেছেন: কাহ্নপা (১৩টি পদ)।
- দ্বিতীয় সর্বাধিক পদ রচনা করেছেন: ভুসুকুপা (৮টি পদ)। ভুসুকুপা নিজেকে খাঁটি বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন (পদ ৪৯: ‘আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী’)।
- আদি পদকর্তা: লুইপা (১ নম্বর পদের রচয়িতা: ‘কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল’)।
- নারী পদকর্তা হিসেবে বিতর্কিত: কুক্কুরীপা (মতান্তরে ৩টি পদের রচয়িতা)।
- ছন্দ: চর্যাপদ মূলত মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
২. অন্ধকার যুগ বিতর্ক (১২০১ – ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ)
তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজীর বাংলা বিজয়ের পরবর্তী প্রায় দেড়শত বছরকে বাংলা সাহিত্যের ‘অন্ধকার যুগ’ বা ‘বন্ধ্যা যুগ’ বলা হতো। তবে এ সময়ে রচিত গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম:
- শূন্যপুরাণ: রামাই পণ্ডিত রচিত চম্পুকাব্য।
- সেক শুভোদয়া: হলায়ুধ মিশ্র রচিত সংস্কৃত চম্পুকাব্য।
- প্রাকৃতপৈঙ্গল: ছন্দশাস্ত্রীয় সংকলন গ্রন্থ।
৩. মধ্যযুগ (১৩৫০ – ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ): প্রধান সাহিত্যধারা
ক. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য (মধ্যযুগের আদি নিদর্শন)
- বড়ু চণ্ডীদাস রচিত। ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়ার কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে এই পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এতে ৩টি প্রধান চরিত্র রয়েছে: কৃষ্ণ, রাধা ও বড়ায়ি (মধ্যস্থতাকারী বৃদ্ধা)।
খ. মঙ্গলকাব্য ধারা
মঙ্গলকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দেব-দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার। প্রধান মঙ্গলকাব্যসমূহ:
- ১মনসামঙ্গল: আদি কবি কানাহরি দত্ত; শ্রেষ্ঠ কবি বিজয়গুপ্ত ও নারায়ণ দেব।
- ২চণ্ডীমঙ্গল: আদি কবি মানিক দত্ত; সর্বশ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। বিখ্যাত চরিত্র: কালকেতু ও ফুল্লরা।
- ৩অন্নদামঙ্গল: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত (মধ্যযুগের সর্বশেষ বড় কবি, মৃত্যু ১৭৬০)। বিখ্যাত উক্তি: “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে”।
গ. আরাকান রাজসভা ও মুসলমান কবিগণ
- রোসাঙ্গ বা আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক চর্চা হয়।
- দৌলত কাজী: আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি। তিনি ‘সতী ময়না ও লোর-চন্দ্রানী’ কাব্য রচনা শুরু করেন।
- মহাকবি আলাওল: মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত কবি। দৌলত কাজীর অসমাপ্ত ‘সতী ময়না’ সমাপ্ত করেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদুমাবত অবলম্বনে রচিত ‘পদ্মাবতী’ (১৬৪৮)।
মুক্তপ্রেপ লাইভ অনুশীলন কর্নার
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের বিগত প্রশ্ন সমাধান করুন
অনলাইনে সরাসরি টাইমার সহ বিগত প্রশ্ন ও মডেল টেস্ট সমাধান করুন সম্পূর্ণ ফ্রিতে।
