বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় সর্বাধিক আসা ১০০টি বাংলা ব্যাকরণ প্রশ্ন ও নির্ভুল ব্যাখ্যা
বিগত ২০ বছরের বিসিএস, ব্যাংক ও পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষায় বারবার আসা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাংলা ব্যাকরণ প্রশ্নের টপিকভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সমাধান।
বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রস্তুতি
বিসিএস প্রিলিমিনারিতে বাংলা অংশে মোট ৩৫ নম্বরের মধ্যে ব্যাকরণ অংশে থাকে ১৫ নম্বর। অন্যান্য সরকারি চাকরি ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাকরণ অংশ থেকে প্রায় ৫০% থেকে ৭০% প্রশ্ন করা হয়।
নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের মৌলিক নিয়মগুলো বোঝা থাকলে ব্যাকরণে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব। নিচে বিগত ২০ বছরের বিসিএস ও পিএসসি পরীক্ষায় সর্বাধিকবার আসা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণিক প্রশ্ন ও তাদের নিখুঁত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও বিশদ ব্যাকরণিক ব্যাখ্যা
১. ধ্বনি ও বর্ণ প্রকরণ
প্রশ্ন: ‘ণত্ব বিধান’ কোন জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
- উত্তর: তৎসম শব্দ।
- ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকেই ণত্ব বিধান বলে। দেশি, তদ্ভব বা বিদেশি শব্দের বানানে কখনো ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় না (যেমন: গভর্নর, কোরআন, পরগনা)।
প্রশ্ন: নিচের কোন ধ্বনিটি ‘পৃষ্ট বা স্পর্শ ধ্বনি’ নয়?
- উত্তর: শ, ষ, স, হ (উষ্ম ধ্বনি)।
- ব্যাখ্যা: ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি বর্ণকে স্পর্শ বা স্পৃষ্ট ধ্বনি বলে। অন্যদিকে শ, ষ, স, হ—এই চারটি হলো উষ্ম বা শীষ ধ্বনি।
২. সন্ধি ও ধ্বনি পরিবর্তন
প্রশ্ন: ‘মনীষা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
- উত্তর: মনস্ + ঈষা।
- ব্যাখ্যা: এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে যে সন্ধি গঠিত হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে (যেমন: পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি, কুল + অটা = কুলটা)।
প্রশ্ন: ‘বিদ্যালয়’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
- উত্তর: বিদ্যা + আলয় (অ/আ + অ/আ = আ)।
- ব্যাখ্যা: এটি স্বরসন্ধির প্রাথমিক ও বহুল প্রচলিত সূত্র।
৩. সমাস নির্ণয়
প্রশ্ন: ‘উপশহর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
- উত্তর: অব্যয়ীভাব সমাস।
- ব্যাখ্যা: পূর্বপদে অব্যয় বসে এবং অব্যয়ের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হলে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। এখানে ‘উপ’ অব্যয়টি ‘সাদৃশ্য’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে (শহরের সদৃশ = উপশহর)।
প্রশ্ন: ‘হাসিমুখ’ কোন সমাস?
- উত্তর: মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- ব্যাখ্যা: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যস্থিত পদ লোপ পায় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে। যেমন: হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
প্রশ্ন: ‘হাতাহাতি’ কোন সমাস?
- উত্তর: ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।
- ব্যাখ্যা: একই শব্দের পুনরাবৃত্তি দ্বারা পারস্পরিক একই জাতীয় ক্রিয়া বোঝালে তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি বলে (হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি, কানে কানে যে কথা = কানাকানি)।
৪. কারক ও বিভক্তি
প্রশ্ন: ‘পাপে বিরত হও’—এখানে ‘পাপে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
- উত্তর: অপাদান কারকে ৭মী (বা এ-বিভক্তি)।
- ব্যাখ্যা: যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, ভীত, আরম্ভ বা বিরত হয় তাকে অপাদান কারক বলে। পাপ থেকে বিরত হওয়া বোঝানোয় এটি অপাদান কারক।
প্রশ্ন: ‘তিলে তৈল হয়’—এখানে ‘তিলে’ কোন কারক?
- উত্তর: অপাদান কারক (তিল থেকে তৈল নিষ্কাশিত বা জাত হয়)।
- সতর্কতা: ‘তিলে তৈল আছে’ বললে তা হবে অধিকরণ কারক (স্থান বা ব্যাপ্তি বোঝায়)।
৫. বাক্য রূপান্তর ও পদ প্রকরণ
প্রশ্ন: ‘তিনি ধনী কিন্তু কৃপণ’—এটি কোন ধরনের বাক্য?
- উত্তর: যৌগিক বাক্য।
- ব্যাখ্যা: পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য যখন ‘এবং, কিন্তু, অথচ, বা’ ইত্যাদি অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
প্রশ্ন: ‘সূর্য উঠলে আঁধার কাটে’—এখানে ‘উঠলে’ কোন ধরনের ক্রিয়া?
- উত্তর: অসমাপিকা ক্রিয়া।
- ব্যাখ্যা: যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না এবং অন্য ক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
বাংলা ব্যাকরণের অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নব্যাংক সমাধান করুন
অনলাইনে সরাসরি টাইমার সহ বিগত প্রশ্ন ও মডেল টেস্ট সমাধান করুন সম্পূর্ণ ফ্রিতে।
